ব্লগার ওয়েবসাইটে কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করার নিয়ম

Blogger ওয়েবসাইটে নিজের পছন্দের ডোমেইন যুক্ত করতে চান? Blogspot থেকে .com ডোমেইনে যাওয়ার সহজ ও সম্পূর্ণ পদ্ধতি জানতে আজকের গাইডটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।


কাস্টম ডোমেইন সেটআপ করতে গিয়ে আর কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না! নিচের সূচিপত্র থেকে প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে জানুন এবং নিজেই আপনার Blogger ওয়েবসাইটে Custom Domain যুক্ত করুন।


পেজ সূচিপত্র ঃব্লগার ওয়েবসাইটে কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করার নিয়ম




১. কাস্টম ডোমেইন কী?

কাস্টম ডোমেইন হলো আপনার ওয়েবসাইটের নিজস্ব পছন্দের ঠিকানা, যেটি ব্যবহার করে মানুষ সহজেই আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারে। সাধারণত Blogger-এ নতুন ব্লগ তৈরি করলে ওয়েবসাইটের ঠিকানার শেষে Blogspot.com থাকে। কিন্তু আপনি চাইলে নিজের কেনা ডোমেইন ব্যবহার করে এই ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন।

উদাহরণ হিসেবে, আপনি যখন Blogger-এ একটি নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করবেন, তখন সেটির ঠিকানা এমন হতে পারে:

mywebsite.blogspot.com

কিন্তু আপনি যদি নিজের পছন্দের একটি ডোমেইন কিনে Blogger-এর সঙ্গে যুক্ত করেন, তাহলে ওয়েবসাইটের ঠিকানা এমন হতে পারে:

www.mywebsite.com

এখানে www.mywebsite.com হলো আপনার Custom Domain।

কাস্টম ডোমেইন ব্যবহার করার ফলে ওয়েবসাইটের ঠিকানা নিজের পছন্দ অনুযায়ী নির্বাচন করা যায়। যেমন আপনি যদি প্রযুক্তি বিষয়ক ব্লগ তৈরি করেন, তাহলে সেই বিষয়ের সঙ্গে মিল রেখে একটি ডোমেইন নাম নির্বাচন করতে পারেন।

এতে পাঠকরা আপনার ওয়েবসাইটের নাম সহজে মনে রাখতে পারবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজের ওয়েবসাইটকে একটি পরিচিত ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে মনে রাখবেন, Custom Domain ব্যবহার করলেই Google-এ আপনার ওয়েবসাইটের র‍্যাঙ্কিং নিশ্চিত হবে না। ভালো কনটেন্ট, সঠিক SEO এবং পাঠকদের জন্য উপকারী তথ্য প্রকাশ করাও জরুরি।

২. Blogger ওয়েবসাইটে কাস্টম ডোমেইন ব্যবহারের সুবিধা

Blogger ওয়েবসাইটে কাস্টম ডোমেইন ব্যবহার করার অনেক সুবিধা রয়েছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে ব্লগিং করতে চান এবং নিজের ওয়েবসাইটকে একটি পরিচিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চান, তাদের জন্য এটি ভালো একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে।

১. ওয়েবসাইটের পেশাদার পরিচিতি তৈরি হয়

নিজস্ব ডোমেইন ব্যবহার করলে ওয়েবসাইটের ঠিকানা আরও সুন্দর ও গোছানো হয়। যেমন example.blogspot.com-এর পরিবর্তে www.example.com ব্যবহার করলে ওয়েবসাইটের নিজস্ব পরিচিতি তৈরি হয়।
২. নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করা সহজ হয়
আপনার ব্লগের নামের সঙ্গে মিল রেখে ডোমেইন নির্বাচন করতে পারবেন। ফলে পাঠকরা আপনার ওয়েবসাইটের নাম সহজে চিনতে পারবেন।
৩. পাঠকদের মনে রাখা সহজ হয়
একটি ছোট ও সহজ ডোমেইন নাম পাঠকদের জন্য মনে রাখা সুবিধাজনক। এতে তারা পরবর্তীতে সরাসরি আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারবেন।
৪. অনলাইন পরিচিতি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে
আপনি যখন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করবেন, তখন নিজস্ব ডোমেইন ব্যবহার করলে আপনার অনলাইন পরিচিতি আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যাবে।
৫. দীর্ঘমেয়াদি ব্লগিংয়ের জন্য সুবিধাজনক
আপনি যদি ভবিষ্যতে নিয়মিত আর্টিকেল প্রকাশ করতে চান, তাহলে শুরু থেকেই নিজের ডোমেইন ব্যবহার করা ভালো পরিকল্পনা হতে পারে।

৬. Google Search Console-এ ওয়েবসাইট পরিচালনা করা যায়

নিজস্ব ডোমেইন Google Search Console-এ যুক্ত করে সার্চ পারফরম্যান্স, ইনডেক্সিং এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, Blogger ওয়েবসাইটে কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করা একটি ভালো পদক্ষেপ। তবে ভালো র‍্যাঙ্কিংয়ের জন্য মানসম্মত আর্টিকেল এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

৩. কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করতে কী কী লাগবে?

Blogger ওয়েবসাইটে Custom Domain যুক্ত করার আগে কয়েকটি বিষয় প্রস্তুত রাখতে হবে। এগুলো আগে থেকে প্রস্তুত থাকলে পুরো কাজটি সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন।

১. একটি Blogger ওয়েবসাইট

প্রথমেই আপনার একটি Blogger ওয়েবসাইট থাকতে হবে। যদি এখনো ব্লগ তৈরি না করে থাকেন, তাহলে Blogger-এ গিয়ে Google অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নতুন ব্লগ তৈরি করতে পারবেন।

২. একটি কেনা ডোমেইন নাম

আপনার পছন্দ অনুযায়ী একটি ডোমেইন কিনতে হবে। যেমন:

  • .com

  • .net

  • .org

  • .info

ডোমেইন কেনার আগে নামটি সহজ, ছোট এবং আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না তা যাচাই করুন।

৩. ডোমেইন প্রোভাইডারের অ্যাকাউন্ট

আপনি যেখান থেকে ডোমেইন কিনবেন, সেখানে আপনার একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। কারণ ডোমেইনের DNS সেটিংস পরিবর্তন করার জন্য সেই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে হবে।

৪. DNS Management সুবিধা

ডোমেইন প্রোভাইডারের ড্যাশবোর্ডে DNS Management অথবা DNS Records নামে একটি বিভাগ থাকতে হবে। এখান থেকেই CNAME এবং A Record যুক্ত করা যাবে।

৫. Blogger অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস

যে Google অ্যাকাউন্ট দিয়ে আপনার Blogger ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে, সেটিতে লগইন করতে হবে।

৬. ইন্টারনেট সংযোগ

সবশেষে একটি ভালো ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন, যাতে Blogger এবং ডোমেইন প্রোভাইডারের ওয়েবসাইটে সহজে কাজ করতে পারেন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, Blogger ব্যবহার করার জন্য আলাদা হোস্টিং কেনার প্রয়োজন নেই। তবে নিজের কাস্টম ডোমেইন ব্যবহার করতে হলে ডোমেইন নিবন্ধনের খরচ দিতে হবে।

৪. Blogger অ্যাকাউন্টে লগইন করার নিয়ম

কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করার প্রথম কাজ হলো Blogger অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা। আপনি যদি আগে থেকেই Blogger ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে এই ধাপটি খুব সহজেই সম্পন্ন করতে পারবেন।

প্রথমে আপনার কম্পিউটার অথবা মোবাইলের ব্রাউজার খুলুন। এরপর Blogger-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

ওয়েবসাইটের ঠিকানা:

https://www.blogger.com/

এবার Sign In অপশনে ক্লিক করে আপনার Google অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন।

লগইন সম্পন্ন হলে Blogger-এর Dashboard দেখতে পাবেন। এখানে আপনার তৈরি করা ব্লগের নাম এবং বিভিন্ন সেটিংস দেখতে পাবেন।

এখন যে ব্লগে কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করতে চান, সেটি নির্বাচন করুন।

যদি আপনার একাধিক Blogger ওয়েবসাইট থাকে, তাহলে সঠিক ব্লগটি নির্বাচন করেছেন কি না তা ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।

কারণ ভুল ব্লগ নির্বাচন করলে অন্য ওয়েবসাইটের সেটিংস পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।

সঠিক ব্লগ নির্বাচন করার পর আপনি পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন।


৫. Custom Domain অপশনে প্রবেশ করার নিয়ম

Blogger অ্যাকাউন্টে লগইন করার পর এবার আপনাকে Custom Domain অপশনে যেতে হবে।

প্রথমে Blogger Dashboard-এর বাম পাশের মেনু থেকে Settings অপশনে ক্লিক করুন।

এখন Settings পেজে Publishing বিভাগটি খুঁজে বের করুন।

এই বিভাগের মধ্যে Custom Domain নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন।

Custom Domain অপশনে ক্লিক করলে একটি ইনপুট বক্স আসবে। এখানে আপনার কেনা ডোমেইন নাম লিখতে হবে।

উদাহরণ:

www.mywebsite.com

এখানে একটি বিষয় মনে রাখবেন, শুধু mywebsite.com লিখবেন না। আপনি যদি www সাবডোমেইন ব্যবহার করতে চান, তাহলে www-সহ সম্পূর্ণ ডোমেইন লিখবেন।

এরপর Save বাটনে ক্লিক করুন।

যদি Blogger আপনাকে দুটি CNAME রেকর্ড দেখায় এবং সেভ করতে না দেয়, তাহলে চিন্তার কোনো কারণ নেই। এটি ডোমেইন সেটআপের স্বাভাবিক একটি ধাপ।

এই CNAME রেকর্ডগুলো আপনাকে ডোমেইন প্রোভাইডারের DNS Management বিভাগে যুক্ত করতে হবে।

তাই Blogger থেকে পাওয়া তথ্যগুলো কপি করে রাখুন। পরবর্তী ধাপে এগুলো ব্যবহার করতে হবে।


৬. CNAME রেকর্ড সংগ্রহ করার পদ্ধতি

Blogger ওয়েবসাইটে কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করার ক্ষেত্রে CNAME রেকর্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

CNAME-এর পূর্ণরূপ হলো Canonical Name। এটি DNS-এর একটি রেকর্ড, যার মাধ্যমে একটি ডোমেইন বা সাবডোমেইনকে অন্য একটি নির্দিষ্ট হোস্টনেমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

Blogger-এ কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করার সময় সাধারণত দুটি CNAME রেকর্ড প্রয়োজন হয়।

প্রথম CNAME রেকর্ড

প্রথম CNAME রেকর্ডটি সাধারণত এমন হয়:

  • Type: CNAME

  • Host/Name: www

  • Destination/Target: ghs.google.com

এই রেকর্ডটি আপনার www সাবডোমেইনকে Blogger-এর সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করে।

দ্বিতীয় CNAME রেকর্ড

দ্বিতীয় CNAME রেকর্ডটি Blogger আপনার জন্য আলাদাভাবে তৈরি করে দেয়।

এখানে একটি উদাহরণ দেওয়া হলো:

  • Type: CNAME

  • Host/Name: Blogger থেকে পাওয়া কোড

  • Destination/Target: Blogger থেকে পাওয়া নির্দিষ্ট ঠিকানা

এই কোড প্রত্যেক ব্লগের জন্য আলাদা হতে পারে। তাই অন্য কারও দ্বিতীয় CNAME রেকর্ড নিজের ডোমেইনে ব্যবহার করবেন না।

CNAME কীভাবে সংগ্রহ করবেন?

প্রথমে Blogger Dashboard-এ প্রবেশ করুন।

এরপর Settings থেকে Publishing বিভাগে যান।

Custom Domain অপশনে আপনার কেনা ডোমেইন লিখে Save করুন।

যদি Blogger DNS সেটআপের জন্য দুটি CNAME রেকর্ড দেখায়, তাহলে সেগুলো কপি করুন।

এবার আপনার কাছে দুটি CNAME রেকর্ড থাকবে। এগুলো পরবর্তী ধাপে DNS Management-এ যুক্ত করতে হবে।

মনে রাখবেন, Blogger যে Host এবং Destination দেখাবে, সেগুলো হুবহু ব্যবহার করবেন।

৭. DNS সেটিংস পরিবর্তন করার নিয়ম

DNS-এর পূর্ণরূপ হলো Domain Name System। এটি ইন্টারনেটে ডোমেইন নামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সার্ভার বা নেটওয়ার্ক ঠিকানা খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

সহজভাবে বললে, আপনি যখন কোনো ওয়েবসাইটের নাম ব্রাউজারে লিখে প্রবেশ করেন, তখন DNS সেই ডোমেইনকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

Blogger ওয়েবসাইটে Custom Domain যুক্ত করার জন্য DNS সেটিংস পরিবর্তন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

DNS সেটিংস পরিবর্তন করার পদ্ধতি

প্রথমে আপনি যেখান থেকে ডোমেইন কিনেছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

এরপর আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।

এখন Domain Management অথবা My Domains অপশনে যান।

আপনার কেনা ডোমেইনটি নির্বাচন করুন।

এরপর DNS Management, Manage DNS অথবা DNS Records অপশনে প্রবেশ করুন।

এখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের DNS রেকর্ড দেখতে পাবেন।

যেমন:

  • A Record

  • CNAME Record

  • TXT Record

  • MX Record

এখন Blogger থেকে সংগ্রহ করা দুটি CNAME রেকর্ড যুক্ত করতে হবে।

প্রথম রেকর্ডে Host হিসেবে www এবং Destination হিসেবে Blogger-এর নির্দেশিত ঠিকানা বসান।

দ্বিতীয় রেকর্ডে Blogger থেকে পাওয়া নিজস্ব Security CNAME-এর তথ্য বসান।

প্রতিটি তথ্য সঠিকভাবে বসানোর পর Save করুন।

DNS প্যানেলের নাম ও ডিজাইন ডোমেইন প্রোভাইডার অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তাই Host, Name, Target অথবা Points To-এর মতো অপশনগুলোর অর্থ বুঝে কাজ করবেন।

বিশেষ সতর্কতা: আগে থেকে থাকা MX, TXT বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় DNS রেকর্ড যাচাই না করে মুছে ফেলবেন না। এগুলো ইমেইল বা অন্য পরিষেবার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

৮. A Record যুক্ত করার নিয়ম

Blogger-এ কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করার পর অনেকেই A Record সম্পর্কে জানতে চান।

A Record হলো DNS-এর এমন একটি রেকর্ড, যা কোনো ডোমেইনকে একটি IPv4 ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত করে।

আপনি যদি চান www ছাড়াও আপনার মূল ডোমেইন ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাক, তাহলে Blogger-এর নির্দেশনা অনুযায়ী চারটি A Record যুক্ত করতে হবে।

উদাহরণ:

আপনার ডোমেইন যদি হয়:

www.mywebsite.com

তাহলে মূল ডোমেইন হবে:

mywebsite.com

মূল ডোমেইন থেকে www ডোমেইনে Redirect করার জন্য নিচের চারটি Google IP ঠিকানা ব্যবহার করা হয়।

Type Host Points To
A @ 216.239.32.21
A @ 216.239.34.21
A @ 216.239.36.21
A @ 216.239.38.21

A Record যুক্ত করার পদ্ধতি

প্রথমে আপনার ডোমেইন প্রোভাইডারের DNS Management বিভাগে যান।

এবার Add Record অপশনে ক্লিক করুন।

Record Type হিসেবে A নির্বাচন করুন।

Host বা Name-এর জায়গায় @ লিখুন। কিছু প্রোভাইডারে এই ঘরটি ফাঁকা রাখতে হয়।

Points To বা Value-এর জায়গায় প্রথম Google IP ঠিকানাটি লিখুন।

এবার Save করুন।

একইভাবে বাকি তিনটি IP ঠিকানার জন্য আরও তিনটি A Record তৈরি করুন।

সবগুলো রেকর্ড যুক্ত হলে সেটিংস ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: A Record চারটি মূল ডোমেইন থেকে www ঠিকানায় Redirect করার জন্য ব্যবহৃত হয়। শুধু www সাবডোমেইনকে Blogger-এর সঙ্গে যুক্ত করার জন্য এগুলোকে CNAME-এর বিকল্প মনে করবেন না।

মূল ডোমেইনের জন্য আগে থেকে অন্য A Record থাকলে সেটি পরীক্ষা করুন। Blogger-এর অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী একই মূল ডোমেইনের জন্য পুরোনো অসামঞ্জস্যপূর্ণ A Record সরাতে হতে পারে।

৯. Blogger-এ কাস্টম ডোমেইন Save করার পদ্ধতি

DNS Management বিভাগে প্রয়োজনীয় CNAME রেকর্ড যুক্ত করার পর এবার Blogger-এ ফিরে যেতে হবে।

প্রথমে আপনার Blogger Dashboard খুলুন।

এরপর যে ব্লগে কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করতে চান, সেটি নির্বাচন করুন।

এবার Settings অপশনে প্রবেশ করুন।

Publishing বিভাগের Custom Domain অপশনে ক্লিক করুন।

এখানে আপনার কেনা ডোমেইনটি লিখুন।

উদাহরণ:

www.mywebsite.com

এরপর Save বাটনে ক্লিক করুন।

যদি DNS রেকর্ডগুলো সঠিকভাবে যুক্ত হয়ে থাকে এবং কার্যকর হয়ে যায়, তাহলে Blogger আপনার কাস্টম ডোমেইন গ্রহণ করবে।

কিন্তু যদি আবার Error দেখায়, তাহলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

প্রথমে পরীক্ষা করুন:

১. প্রথম CNAME সঠিকভাবে যুক্ত হয়েছে কি না।

২. দ্বিতীয় Security CNAME সঠিকভাবে যুক্ত হয়েছে কি না।

৩. Host এবং Destination-এ কোনো ভুল হয়েছে কি না।

৪. DNS পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে কি না।

Google-এর নির্দেশনা অনুযায়ী DNS পরিবর্তন কার্যকর হতে কিছু সময় লাগতে পারে। তাই বারবার একই সেটিংস পরিবর্তন না করে অপেক্ষা করুন।

ডোমেইন যুক্ত হয়ে গেলে Blogger-এর Publishing বিভাগে Redirect Domain অপশনটি খুঁজে দেখুন।

এটি চালু করলে mywebsite.com থেকে www.mywebsite.com-এ পাঠকদের নিয়ে যাওয়া যাবে।

১০. HTTPS চালু করার নিয়ম

Blogger ওয়েবসাইটে কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করার পর HTTPS চালু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

HTTPS-এর পূর্ণরূপ হলো Hypertext Transfer Protocol Secure।

এটি ওয়েবসাইট এবং ভিজিটরের ব্রাউজারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান নিরাপদ রাখতে এনক্রিপশন ব্যবহার করে।

সাধারণ HTTP এবং HTTPS-এর মধ্যে পার্থক্য হলো HTTPS সংযোগে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।

উদাহরণ:

HTTP: http://www.mywebsite.com

HTTPS: https://www.mywebsite.com

HTTPS চালু থাকলে ওয়েবসাইটের ঠিকানার পাশে সাধারণত একটি তালার চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়।

Blogger-এ HTTPS চালু করার নিয়ম

প্রথমে Blogger Dashboard-এ প্রবেশ করুন।

এরপর Settings অপশনে ক্লিক করুন।

এবার HTTPS বিভাগটি খুঁজে বের করুন।

এখানে HTTPS Availability নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন।

প্রথমে HTTPS Availability চালু করুন।

এরপর Google আপনার কাস্টম ডোমেইনের জন্য SSL সার্টিফিকেট প্রস্তুত করবে।

সার্টিফিকেট তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

যখন HTTPS সঠিকভাবে কাজ করবে, তখন HTTPS Redirect অপশন চালু করুন।

এর ফলে HTTP দিয়ে প্রবেশ করলেও ভিজিটররা HTTPS সংস্করণে চলে যাবেন।

HTTPS চালু করার সুবিধা

  • ওয়েবসাইটের সংযোগ নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে।

  • ভিজিটরদের তথ্য আদান-প্রদানে এনক্রিপশন ব্যবহার করে।

  • ব্রাউজারে নিরাপদ সংযোগের অভিজ্ঞতা দেয়।

  • ওয়েবসাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষ সতর্কতা: আপনার ডোমেইনে CAA Record ব্যবহার করা থাকলে Google-এর নির্দেশনা অনুযায়ী letsencrypt.org অনুমোদন করতে হবে। অন্যথায় Blogger SSL সার্টিফিকেট তৈরি বা নবায়ন করতে সমস্যা হতে পারে।

১১. কাস্টম ডোমেইন সেটআপে সমস্যা ও সমাধান

Blogger ওয়েবসাইটে Custom Domain যুক্ত করার সময় নতুন ব্লগাররা বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

বিশেষ করে CNAME, A Record এবং DNS সেটিংস সঠিকভাবে না করলে ডোমেইন কাজ নাও করতে পারে।

এখানে কিছু সাধারণ সমস্যা এবং সেগুলোর সমাধান আলোচনা করা হলো।

সমস্যা ১: Blogger-এ Custom Domain Save হচ্ছে না

অনেক সময় ডোমেইন যুক্ত করার পর Blogger Error দেখায়।

সমাধান:

প্রথমে Blogger থেকে পাওয়া দুটি CNAME রেকর্ড পরীক্ষা করুন। Host এবং Destination সঠিকভাবে বসানো হয়েছে কি না দেখুন।

দ্বিতীয় Security CNAME বাদ পড়েছে কি না তাও পরীক্ষা করুন।

সমস্যা ২: ওয়েবসাইট খুলছে না

DNS সেটিংস পরিবর্তনের পরও ওয়েবসাইট না খুললে DNS পরিবর্তন এখনো কার্যকর না-ও হতে পারে।

সমাধান:

কিছু সময় অপেক্ষা করুন। এরপর ব্রাউজার থেকে আবার ওয়েবসাইট খুলে দেখুন।

প্রয়োজনে অন্য ব্রাউজার বা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পরীক্ষা করুন।

সমস্যা ৩: www দিয়ে ওয়েবসাইট খুলছে, কিন্তু www ছাড়া খুলছে না

এটি সাধারণত Root Domain-এর Redirect বা A Record সংক্রান্ত সমস্যা হতে পারে।

সমাধান:

চারটি Google A Record সঠিকভাবে যুক্ত হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন।

এরপর Blogger-এর Settings থেকে Redirect Domain চালু করুন।

সমস্যা ৪: HTTPS চালু হচ্ছে না

কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করার পর HTTPS চালু হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

সমাধান:

প্রথমে DNS রেকর্ডগুলো পরীক্ষা করুন।

এরপর HTTPS Availability চালু করে অপেক্ষা করুন। সার্টিফিকেট প্রস্তুত হলে HTTPS Redirect চালু করুন।

সমস্যা ৫: CNAME রেকর্ডে ভুল দেখাচ্ছে

DNS প্যানেলে Host অথবা Destination ভুল হলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সমাধান:

Blogger থেকে পাওয়া CNAME তথ্যের সঙ্গে DNS প্যানেলের তথ্য মিলিয়ে দেখুন। অন্য কোনো ব্লগের Security CNAME ব্যবহার করবেন না।

সমস্যা ৬: DNS পরিবর্তনের পরও পুরোনো ঠিকানা দেখা যাচ্ছে

কখনো DNS Cache অথবা ব্রাউজারের পুরোনো তথ্যের কারণে এমন হতে পারে।

সমাধান:

কিছু সময় অপেক্ষা করুন। ব্রাউজারের Cache পরিষ্কার করে আবার চেষ্টা করতে পারেন।

সবশেষে, কোনো সমস্যার সমাধান না হলে আপনার ডোমেইন প্রোভাইডার অথবা Blogger Help Community-এর সাহায্য নিতে পারেন।

১২. Blogger Custom Domain সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন

নতুন ব্লগারদের মনে কাস্টম ডোমেইন নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।

প্রশ্ন ১: Blogger-এ কি বিনামূল্যে Custom Domain যুক্ত করা যায়?

উত্তর: Blogger-এ কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করার জন্য আলাদা হোস্টিং ফি দিতে হয় না। তবে নিজের ডোমেইন কিনতে হলে ডোমেইন নিবন্ধনের খরচ দিতে হবে।

প্রশ্ন ২: Custom Domain যুক্ত করতে কি Hosting কিনতে হবে?

উত্তর: না। Blogger-এর নিজস্ব হোস্টিং ব্যবহার করেই কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করা যায়। তাই আলাদা হোস্টিং কেনার প্রয়োজন নেই।

প্রশ্ন ৩: Custom Domain যুক্ত করতে কত সময় লাগে?

উত্তর: অনেক সময় অল্প সময়ের মধ্যেই ডোমেইন কাজ শুরু করে। তবে DNS পরিবর্তন কার্যকর হতে কয়েক ঘণ্টা থেকে ২৪-৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

প্রশ্ন ৪: Blogspot Domain কি মুছে যাবে?

উত্তর: সাধারণত পুরোনো Blogspot ঠিকানাটি নতুন কাস্টম ডোমেইনে Redirect করা হয়। ফলে পুরোনো ঠিকানার মাধ্যমে আসা পাঠকরাও নতুন ঠিকানায় পৌঁছাতে পারেন।

প্রশ্ন ৫: Custom Domain যুক্ত করলে কি Google Ranking বাড়বে?

উত্তর: কাস্টম ডোমেইন ব্যবহার করলে ওয়েবসাইটের নিজস্ব পরিচিতি তৈরি হয়। তবে শুধু ডোমেইন পরিবর্তন করলেই Google Ranking বাড়বে না। ভালো কনটেন্ট, SEO, ওয়েবসাইটের গতি এবং পাঠকদের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন ৬: Blogger-এ .com ডোমেইন ব্যবহার করা যাবে?

উত্তর: হ্যাঁ। সঠিকভাবে নিবন্ধিত .com ডোমেইন Blogger-এর সঙ্গে যুক্ত করা যায়।

প্রশ্ন ৭: Custom Domain যুক্ত করার পর HTTPS চালু করা কি জরুরি?

উত্তর: নিরাপদ সংযোগের জন্য HTTPS চালু রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ওয়েবসাইটের তথ্য আদান-প্রদান এনক্রিপ্ট করতে সাহায্য করে।

প্রশ্ন ৮: Blogger-এ কি একাধিক ডোমেইন যুক্ত করা যায়?

উত্তর: একটি Blogger ব্লগে একটি প্রধান কাস্টম ডোমেইন ব্যবহার করা হয়। অন্য ডোমেইন থাকলে প্রয়োজনে সেটিকে প্রধান ডোমেইনে Redirect করার ব্যবস্থা করতে পারেন।

প্রশ্ন ৯: ডোমেইন যুক্ত করার পর পুরোনো পোস্টগুলো থাকবে কি?

উত্তর: সাধারণভাবে কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করার কারণে আপনার প্রকাশিত পোস্টগুলো মুছে যায় না। সেগুলো নতুন ডোমেইনের মাধ্যমে দেখা যায়। তবে পরিবর্তনের পর লিংক এবং Redirect ঠিকভাবে কাজ করছে কি না পরীক্ষা করা উচিত।

প্রশ্ন ১০: Custom Domain যুক্ত করতে না পারলে কী করব?

উত্তর: প্রথমে CNAME, A Record এবং DNS সেটিংস পরীক্ষা করুন। এরপর কিছু সময় অপেক্ষা করুন। তারপরও সমস্যা থাকলে Blogger Help Center অথবা ডোমেইন প্রোভাইডারের সহায়তা নিন।

  

Blogger Custom Domain সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: Blogger-এ Custom Domain যুক্ত করতে কি টাকা লাগে?

উত্তর: Blogger-এ কাস্টম ডোমেইন ব্যবহার করার জন্য আলাদা হোস্টিং ফি দিতে হয় না। তবে নিজের ডোমেইন কিনতে হলে ডোমেইন নিবন্ধনের খরচ দিতে হবে।

প্রশ্ন ২: Blogger-এ কি .com ডোমেইন যুক্ত করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, Blogger ওয়েবসাইটে .com, .net এবং অন্যান্য সমর্থিত ডোমেইন যুক্ত করা যায়।

প্রশ্ন ৩: Custom Domain যুক্ত করতে কি Hosting কিনতে হবে?

উত্তর: না। Blogger-এর নিজস্ব হোস্টিং ব্যবহার করেই কাস্টম ডোমেইন চালানো যায়।

প্রশ্ন ৪: ডোমেইন যুক্ত করার পর কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে?

উত্তর: DNS সেটিংস কার্যকর হতে কয়েক ঘণ্টা থেকে ২৪-৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে সময় ভিন্ন হতে পারে।

প্রশ্ন ৫: Custom Domain যুক্ত করলে কি Google Ranking বাড়বে?

উত্তর: শুধু কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করলেই Google Ranking বাড়বে না। ভালো কনটেন্ট, সঠিক SEO এবং পাঠকদের উপকার করে এমন তথ্য প্রকাশ করা জরুরি।

প্রশ্ন ৬: Custom Domain যুক্ত করার পর HTTPS চালু করতে হবে কি?

উত্তর: হ্যাঁ, ওয়েবসাইটের নিরাপদ সংযোগের জন্য HTTPS চালু রাখা উচিত।

প্রশ্ন ৭: Custom Domain যুক্ত করার পর পুরোনো পোস্টগুলো কি থাকবে?

উত্তর: হ্যাঁ, সাধারণত আগের পোস্টগুলো অক্ষত থাকে এবং নতুন ডোমেইনের মাধ্যমে দেখা যায়।

প্রশ্ন ৮: Blogger-এ Custom Domain যুক্ত করতে সমস্যা হলে কী করব?

উত্তর: প্রথমে CNAME, A Record এবং DNS সেটিংস পরীক্ষা করুন। তারপরও সমস্যা থাকলে Blogger Help Community অথবা ডোমেইন প্রোভাইডারের সহায়তা নিন।

শেষ কথা

Blogger ওয়েবসাইটে কাস্টম ডোমেইন যুক্ত করা নতুন ব্লগারদের জন্য প্রথমে কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে। বিশেষ করে DNS, CNAME এবং A Record সম্পর্কে আগে ধারণা না থাকলে সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক।
তবে এই আর্টিকেলে দেখানো ধাপগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলে আপনি নিজেই নিজের Blogger ওয়েবসাইটে Custom Domain যুক্ত করতে পারবেন।
নিজস্ব ডোমেইন ব্যবহার করলে আপনার ওয়েবসাইটের আলাদা পরিচিতি তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে নিজের একটি অনলাইন ব্র্যান্ড গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
তাই দেরি না করে নিজের ওয়েবসাইটের জন্য একটি সুন্দর ডোমেইন নির্বাচন করুন এবং সঠিকভাবে সেটআপ সম্পন্ন করুন।
আশা করি, আজকের এই বিস্তারিত গাইডটি আপনার উপকারে আসবে। পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন এবং কাস্টম ডোমেইন সেটআপ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন।
ধন্যবাদ আমাদের পোস্টটি পড়ার জন্য।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url